* উমেদার থেকে ঝাড়ুদার, অফিস সহকারী থেকে এক্সট্রা মোহরার সিন্ডিকেট গড়ে তুলে প্রতি মাসে অর্ধ কোটির ও অধিক টাকা লোপাট করছে।
* নকল নবিশ হয়েও পালন করছে সহকারীর দায়িত্ব।
* কারেকশনের নামে ফাইল পেন্ডিং, এপ্রুভালের জন্য টাকা ছুড়লেই ফাইল সাকসেস।
* নকল উত্তোলন থেকে টিপসই কোনো কিছুই ঘুষের বাইরে নয়।
* দলিল প্রতি ঘুষ বাণিজ্য, একই চেয়ার বছরের পর বছর বহাল তবিয়তে।
ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিসে বিগত সময়ে যে সকল কর্মকর্তারা দায়িত্বে ছিলো তারা বর্তমানে রাজধানীজুড়ে দেশের বিভিন্ন আনাচে কানাচে অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়েছে। তাদের মধ্যে অহিদুল ইসলাম, ওসমান গনি মন্ডল আর বর্তমানে সাব রেজিস্ট্রার ইমরুল খোরশেদ। তবে ইমরুল খোরশেদ গত ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ অফিসের দায়িত্বে থাকলেও আওয়ামী শাসনামলে তার দাপট ছিলো অন্যরকম।
জমির ক্রেতা-বিক্রেতা ও দলিল লেখকদের অভিযোগ, ঘুষ ছাড়া এই অফিসে কোনো দলিল নড়ে না। প্রতিটি দলিল রেজিস্ট্রি করতে দিতে হয় অতিরিক্ত টাকা। এই টাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের মধ্যে বণ্টন হয়ে যায়। টাকা না দিলে দলিলে ইচ্ছা করে ভুল করা কিংবা দলিল আটকে রেখে হয়রানির ঘটনাও ঘটে।
অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মোহরার বা সংশ্লিষ্টদের সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে নিম্ন আয়ের থেকে মধ্য আয়ের সাধারণ মানুষ সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত মোটা অঙ্কের ব্যয় করে দলিল সম্পাদন করতে বাধ্য হচ্ছেন। অফিসের মধ্যে সরকার নির্ধারিত ফি আদায়ের তালিকা টাঙানো থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। তালিকায় বিভিন্ন প্রকৃতির দলিলের মধ্যে সাফ-কবলা, হেবা ঘোষণাপত্র, দানপত্র ও বন্ধকী দলিল সম্পাদনের জন্য পৃথক ফি উল্লেখ রয়েছে। তারপরও রেজিস্ট্রি অফিসে জমি ক্রেতাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।
কেরানীগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রি অফিস সব সময় কর্মব্যস্ত থাকে। প্রতিদিন সেখানে দুই থেকে আড়াই শ বিভিন্ন শ্রেণির দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে। রেজিস্ট্রি করতে আসার পরই শুরু হয় নানা বিপত্তি। টেবিলে টেবিলে ঘুষ, তবে এ শব্দটির বিকল্প উচ্চারণে বলতে হয় ফিস দিচ্ছি। এমন অভিনব কায়দায় আদায় হচ্ছে ঘুষ। কেরানি, মোহরার, টিসি মোহরার, এক্সট্রা মোহরার —সবাই হাত পেতে দাঁড়িয়ে থাকে কথিত সেই ফিসের জন্য। দরজার আড়ালে সেলিম থেকে মোস্তফা, সেন্টারে দাঁড়িয়ে কন্ট্রোলিং ফারুক থেকে মুন্তাসীর, বাকিরা শুধু চোখের ইশারায় কথা বলে। দিনশেষে সমিতির ফান্ড, কর্মকর্তার ফান্ড, সেরেস্তা ফান্ডে জনগনের কস্টের অর্জিত অর্থ এসকল অসাধু সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে নিবন্ধন করতে আসা সাধারণেরা বিভিন্ন ভাবে হেনস্তা হয়।
কাগজপত্রে বিন্দুমাত্র ভুল পেলে যেন ঘুষের মাত্রাও বেড়ে যায়। নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা না দিলে কাজ হয় না এই অফিসে। জমির দলিল আটকে রেখে ভুক্তভোগীদের চাপের মুখে ঘুষ দাবি সাব-রেজিস্ট্রার, উমেদার ও নকলনবিশদের নিয়মিত আচরণে পরিণত হয়েছে।
সাব রেজিস্ট্রার ইমরুল খোরশেদের চাকরিজীবনে অনেক গল্পই রয়েছে তবে ভালো মন্দ দুটো নিয়েই। কিন্তু এই অফিসে দায়িত্ব পাওয়ার পর তার পথ আরও সুদৃঢ় হয়ে যায়। সম্রান্ত পরিবার থেকে বেড়ে ওঠা এই কর্মকর্তা কর্মজীবনে যেখানে গেছেন সেখানেই বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। একাধিকবার পত্রপত্রিকার শিরোনাম হয়েছেন আবার পড়ন্ত বিকেলে সূর্য ডুবতেই শিরোনাম থেকে নাম মুছে দিতে সক্ষমও হয়েছেন। গত ১২ বছরে জীবনযাত্রার মান ধাপে ধাপে অগ্রসরের পথে, তবে তা অবৈধ পন্থায়। অভিযোগ রয়েছে, শতাংশের হিসাব কষে ঘুষ নেন তিনি। না দিলে কাজ তো হবেই না, উল্টো দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে। অবশেষে বাধ্য হয়ে ঘুষ দিয়েই ফিরতে হবে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই অফিসে মোটা অঙ্কের ঘুষ ছাড়া কোনো জমির রেজিস্ট্রি হয় না। দলিল লেখক সমিতির কয়েকজন নেতা, দালাল সিন্ডিকেট ও সাব-রেজিস্ট্রারের কথিত উমেদার, সহকারীর মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করা হয়।
ধারাবাহিক পর্বে চমকপ্রদ চাঞ্চল্যকর আরও বেশকিছু তথ্য তুলে ধরা হবে।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি